আসামিদের গ্রেপ্তারের আবেদন
যশোর প্রতিনিধি:
যশোরে বাড়ির উঠানে প্রবেশ করে এক নারীকে লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় ওই নারীর বাম হাতের হাড় ভেঙে গেছে বলে আদালতে দায়ের করা মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনাটি ঘটেছে ২১ আগস্ট ২০২৬, দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে, যশোর কোতোয়ালি থানার দাইতলা সরদারপাড়া এলাকায় বাদীর বসতবাড়ির উঠানে। এ ঘটনায় মোছা. সুফিয়া বেগম (৫৫)-কে গুরুতর আহত করার অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন তার স্বামী মো. মোকাদ্দেস আলী সরদার (৬০)।
আদালতে দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়েছে, পূর্ববিরোধের জের ধরে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে বাদীর বাড়ির উঠানে প্রবেশ করে। এ সময় তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ উত্তেজনাকর আচরণ শুরু করে। একপর্যায়ে ১ নম্বর আসামি মো. মাসুম তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে সুফিয়া বেগমের মাথায় আঘাত করার উদ্দেশ্যে হামলা চালান। আঘাত এড়াতে গিয়ে রডের আঘাত তার বাম হাতে লাগে। এতে হাতের হাড়ে গুরুতর জখম হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় অন্য আসামিরাও বাঁশের লাঠি দিয়ে সুফিয়া বেগমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। মারধরে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
পরবর্তীতে আহত অবস্থায় সুফিয়া বেগমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে তার বাম হাতের অপারেশন করে ভাঙা হাড় জোড়া লাগানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে আদালতে দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, ঘটনার পর থেকেই তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলার নথিতে অভিযুক্ত হিসেবে মো. মাসুম (৩৫), মো. নেওয়াজ (৩০) এবং মোছা. কহিনুর বেগম (২৮)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মারধর, গুরুতর জখম ও হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাদী অভিযোগে আরও উল্লেখ করেছেন, ঘটনার পর থানায় গিয়ে মামলা করার চেষ্টা করলেও তা করতে বিলম্ব হওয়ায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। পরে আদালতে মামলা দায়ের করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। তবে একটি অসহায় নারীর ওপর প্রকাশ্য হামলা, লোহার রড দিয়ে আঘাত এবং হাত ভেঙে দেওয়ার মতো অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
মামলা নং: ৩২৫/৩০৭/৩২৩/৪৪৮/৫০৬(২) ধারা, আদালত
বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, কোতোয়ালি আমলী আদালত, যশোর।