রওশন আরা রুমা :
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও সামাজিক সম্পৃক্ততায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চান স্থানীয়দের একাংশ
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যশোর সদর উপজেলার ৫ নম্বর উপশহর ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য (১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড) পদে সম্ভাব্য প্রার্থী রিজিয়া বেগমকে নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিরামপুর-পাগলাদোহা, নওদাগা, বৈলপুর, মধুগ্রাম, পাঁচবাড়িয়া ও বড় বালিয়াডাঙ্গা এলাকার অনেক বাসিন্দার ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় রিজিয়া বেগম সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, তিনি বিভিন্ন সময় এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। এ কারণে সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অনেক ভোটার আগামী নির্বাচনে তাকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, রিজিয়া পারভিন ডলি ওরফে রিজিয়া বেগম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত। তিনি ৪ নম্বর নওয়াপাড়া ইউনিয়ন মহিলা দলের সদস্য সচিব এবং যশোর সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রিজিয়া বেগম বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তিনি ও তার পরিবার নানা ধরনের রাজনৈতিক হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় যশোর শহরের লালদিঘী পারস্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে তাকে আটক করা হয়েছিল।
তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৩ সালে তার ছোট ছেলে ইমরান খানকে ঘোপ মাহমুদুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে মারধরের পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। একইভাবে তার বড় ছেলে সোহাগও রাজনৈতিক কারণে ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আরিফুর রহমান সাগরের নেতৃত্বে হামলা ও হয়রানির শিকার হন বলে তিনি অভিযোগ করেন। একপর্যায়ে উপশহর ফাঁড়ির এক পুলিশ সদস্য ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনেন এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, এক পর্যায়ে তার ছেলেকে অর্থের বিনিময়ে মুক্ত করা হয়।
স্থানীয়রা জানান রিজিয়া পারভিন বিএনপির ঘোষিত হরতাল কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় যশোর শহরের নিউমার্কেট শিশু হাসপাতালের সামনে তিনি হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ভোটারদের একাংশের ভাষ্য, নির্বাচিত হলে রিজিয়া পারভিন ডলি নারী উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, মাদকবিরোধী কার্যক্রম, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখতে পারবেন।
বিরামপুর-পাগলাদোহা, নওদাগা, বৈলপুর, মধুগ্রাম, পাঁচবাড়িয়া ও বড় বালিয়াডাঙ্গাসহ সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অনেক বাসিন্দা আশা প্রকাশ করেছেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রিজিয়া পারভিন ডলি জনগণের সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, জনসম্পৃক্ততা ও মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেই বিবেচনায় রিজিয়া বেগমের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে।
রিজিয়া বেগম বলেন, তার নির্বাচনী এলাকার জনগন নির্ধারন করবেন তিনটি ওয়ার্ডের দ্বায়ীত্ব কার কাছে দিবেন। সাধারন মানুষেরা আমার প্রতি যেমন আস্থা রেখেছেন আমিও তাদের প্রতি শতভাগ আস্থা বিশ্বাস রেখে এগিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ।
তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবেন ভোটাররাই।
