ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home Archives

হাসপাতালের আলো যখন নেভে না, তখন নিভে যায় নার্সদের স্বাস্থ্য . ঝুঁকি ভাতা কেন আমাদের অধিকার নয়?

সম্পা ইসলাম
​রাত যখন গভীর হয়, পৃথিবী যখন ঘুমে আচ্ছন্ন, তখনো হাসপাতালের করিডোরে নির্ঘুম জেগে থাকেন একজন নার্স। একটানা ১২ ঘণ্টার নাইট ডিউটি! এটা শুধু একটি ডিউটি নয়, এটি শরীর ও মনের ওপর চরম এক শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার।
​চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক গবেষণায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, দীর্ঘমেয়াদে রাতের পর রাত জেগে ডিউটি করা সারকাডিয়ান রুটিন নষ্ট করে এবং ক্যান্সার, হৃদরোগসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অত্যন্ত জটিল ও সংক্রামক রোগীদের সরাসরি সেবা প্রদান করি আমরা। যেকোনো মুহূর্তে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয়, শারীরিক ক্লান্তি আর মানসিক চাপ আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী।


​অন্যান্য অনেক পেশায় যেখানে নির্দিষ্ট কাজের ঝুঁকি ও অতিরিক্ত সময়ের জন্য বিশেষ ভাতা দেওয়া হয়, সেখানে নার্সদের ১২ ঘণ্টার এই প্রাণঘাতী নাইট ডিউটি ও সার্বক্ষণিক পেশাগত ঝুঁকি সত্ত্বেও “ঝুঁকি ভাতা” না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক।


​আমরা নিবেদিতপ্রাণ হয়ে সেবা দিতে পিছপা হই না, কিন্তু আমাদের স্বাস্থ্য ও জীবনেরও তো মূল্য আছে!
​সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো আকুল আবেদন:
​নার্সদের শারীরিক ও মানসিক ঝুঁকির কথা বিবেচনায় এনে অবিলম্বে যুক্তিসঙ্গত ঝুঁকি ভাতা চালু করা হোক।
​অতিরিক্ত ও দীর্ঘ নাইট ডিউটির সময়সীমা পুনর্নির্ধারণ করে মানবিক ও বৈজ্ঞানিক কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করা হোক।
​নিজেদের সুস্থ রেখে যেন আমরা অন্যের জীবন বাঁচাতে পারি এই মৌলিক অধিকারটুকু বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেলের গ্যাজেট প্রকাশের দাবি

দ্রব্যমূল্যের এই তীব্র ঊর্ধ্বগতির বাজারে নতুন পে স্কেলের গ্যাজেট প্রকাশ এখন আর বিলাসিতা নয়, সময়ের চরম দাবি!
​২০১৫ সালের পর থেকে প্রায় এক দশক কেটে গেলেও এখনো পর্যন্ত নতুন কোনো পূর্ণাঙ্গ পে স্কেল বাস্তবায়িত হয়নি। অথচ এই সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, ঘরভাড়া, চিকিৎসাব্যয় থেকে শুরু করে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বেড়েছে বহুগুণ।


​দিনরাত এক করে সততার সাথে দেশের সেবা দিয়ে যাওয়া সরকারি কর্মচারীরা আজ জীবনযাত্রার এই কঠোর বাস্তবতায় দিশেহারা। সীমিত আয়ে পরিবার নিয়ে সম্মানজনকভাবে জীবনযাপন করা দিন দিন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে।
​দেশের সর্বস্তরের সরকারি চাকরিজীবী—শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের প্রতিটি কর্মী—আজ একটি ন্যায্য ও যুগোপযোগী পে স্কেলের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।


​আমাদের আকুল আবেদন:
​ অবিলম্বে নতুন পে কমিশন গঠন এবং বর্তমান বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নতুন পে স্কেলের গ্যাজেট প্রকাশ।
​ সকল কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বাস্তবসম্মত বেতন-ভাতা নির্ধারণ।
​ দ্রব্যমূল্যের স্ফীতি বিবেচনায় রেখে নিয়মতান্ত্রিক সুবিধা নিশ্চিতকরণ।
​সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি সকল সরকারি চাকরিজীবী ও তাদের পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে এবং কর্মস্পৃহা আরও বাড়িয়ে তুলতে দ্রুত নতুন পে স্কেলের গ্যাজেট প্রকাশের পদক্ষেপ নিন।
​আপনি কি মনে করেন নতুন পে স্কেল দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন? আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্টে লিখুন এবং পোস্টটি শেয়ার করে সবার দাবি পৌঁছে দিন।

লেখিকা
সম্পা ইসলাম
সিনিয়র স্টাফ নার্স

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল,যশোর।

টাইম ডিশন ২৪ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।