বাঙালির কাছে গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটির সমস্যা খুবই সাধারণ বিষয়। তেল-মসলাযুক্ত বা ভারী খাবার খাওয়ার পর বুক জ্বালা, পেট ফাঁপা, চোঁয়া ঢেকুর, বমি ভাব কিংবা পেটে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
অনেকেই এই সমস্যা কমাতে চটজলদি অ্যান্টাসিড বা গ্যাসের ওষুধ খেয়ে নেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, ঘন ঘন গ্যাসের ওষুধ খাওয়া শরীরের জন্য একেবারেই ভালো নয়।
অ্যান্টাসিডের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আমরা খুব সহজেই রান্নাঘরের কিছু ভেষজ উপাদানের সাহায্য নিতে পারি। চলুন, জেনে নিই সেগুলো কী কী।
মৌরি
খাবার খাওয়ার পর অনেকেরই মৌরি চিবানোর অভ্যাস থাকে। এই অভ্যাসটি আসলে খুবই স্বাস্থ্যকর। মৌরি পরিপাকতন্ত্রকে শান্ত রাখে এবং পেট ফাঁপার সমস্যা দ্রুত দূর করে।
জিরা
অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা ঢেকুর শুরু হলে জিরে ভেজানো পানি বা জিরার পানি পান করুন।
জিরে পেটের অতিরিক্ত গ্যাস বের করে দিতে সাহায্য করে। নিয়মিত জিরার পানি খেলে হজমের স্থায়ী সমাধান মেলে।
আদা
আদাতে আছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা পেটের ভেতরের জ্বালাপোড়া ও প্রদাহ কমায়। খাবার হজম হতে দেরি হলে সাধারণত অ্যাসিডিটি বাড়ে, আর আদা এই হজম প্রক্রিয়াকে দ্রুত করে। পানিতে আদা ফুটিয়ে কিংবা কাঁচা আদা চিবিয়েও খাওয়া যায়।
এলাচ
তরকারিতে মুখে পড়লে অনেকের মেজাজ খারাপ হলেও, এলাচ কিন্তু পেটের জন্য দারুণ উপকারী। এটি পেটের জ্বালা ভাব ও বদহজম দূর করে। সমস্যা হলে এলাচ দানা চিবিয়ে খেতে পারেন অথবা এক কাপ এলাচ চা-ও চমৎকার কাজ দেয়।
তুলসি পাতা
তুলসি পাতায় থাকা ওষুধি গুণ গ্যাস-অম্বলের সমস্যা দ্রুত কমিয়ে ফেলে। বদহজমের সমস্যায় ভুগলে তুলসি পাতা পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি পান করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এটি মানসিক চাপ কমাতেও সাহায্য করে।
মাঝে মধ্যে খাওয়াদাওয়ার অনিয়ম থেকে গ্যাস হলে এই ঘরোয়া উপায়গুলো দারুণ কাজ করে। তবে যদি প্রতিদিন বা নিয়ম করে এই সমস্যা হতে থাকে, তবে অবহেলা না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সূত্র : এই সময়
kalerkantho
