ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home অন্যান্য...স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু বেড়ে ৮০ ডিআর কঙ্গোতে

ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু বেড়ে ৮০ ডিআর কঙ্গোতে

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে নতুন করে ইবোলা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ পর্যন্ত এই প্রাদুর্ভাবে ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্যামুয়েল রজার কাম্বা মুলাম্বা শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে বলেন, বৃহস্পতিবার পরীক্ষায় বুন্ডিবুগিও ধরনের ইবোলা ভাইরাসের আটটি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। আক্রান্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে রুয়ামপারা, মঙ্গওয়ালু ও বুনিয়া স্বাস্থ্য অঞ্চল।

এখন পর্যন্ত ২৪৬টি সন্দেহভাজন সংক্রমণের ঘটনা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ধারণা করা হচ্ছে, প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন বুনিয়ার ইভানজেলিক্যাল মেডিকেল সেন্টারের এক নার্স।

জ্বর, রক্তক্ষরণ, বমি ও তীব্র দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তিনি মারা যান। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঙ্গো সরকার জরুরি জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম কেন্দ্র চালু করেছে। পাশাপাশি রোগ শনাক্তকরণ ও পরীক্ষাগার নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার আফ্রিকার শীর্ষ জনস্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, ইতুরি প্রদেশে ইবোলার প্রাদুর্ভাব নিশ্চিত হয়েছে এবং তখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ছিল ৬৫ জন।

আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি) জানিয়েছে, তারা কঙ্গো, উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নজরদারি, প্রস্তুতি ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরো জোরদার করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, অধিকাংশ মৃত্যু ও সন্দেহভাজন সংক্রমণের ঘটনা মঙ্গওয়ালু ও রুয়ামপারা স্বাস্থ্য অঞ্চলে পাওয়া গেছে। পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া আক্রান্তদের মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া প্রাদেশিক রাজধানী বুনিয়াতেও সন্দেহভাজন সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে।

আফ্রিকা সিডিসি বলেছে, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে যে এটি ইবোলার জাইর ধরনের নয় এমন একটি স্ট্রেইন। ভাইরাসটি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে জিনগত বিশ্লেষণ বা সিকোয়েন্সিং চলছে।

কঙ্গোর ভাইরোলজিস্ট জ্যাঁ-জ্যাক মুইয়েম্বে ইবোলা ভাইরাসের সহআবিষ্কারকদের একজন এবং কিনশাসার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর বায়োমেডিক্যাল রিসার্চের প্রধান। তিনি রয়টার্সকে জানান, কঙ্গোতে এর আগে হওয়া ১৬টি ইবোলা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ১৫টিই জাইর ধরনের ভাইরাসের কারণে হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ভিন্ন ধরনের ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলা আরো কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ বর্তমানে ব্যবহৃত চিকিৎসা ও টিকাগুলো মূলত জাইর ধরনের ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে তৈরি করা হয়েছিল।

আফ্রিকা সিডিসি জানিয়েছে, বুনিয়া ও রুয়ামপারার মতো শহরাঞ্চলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। এ ছাড়া আক্রান্ত এলাকাগুলোতে খনিশিল্পের কারণে মানুষের যাতায়াত অনেক বেশি। এলাকাগুলো উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় সংক্রমণ অন্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আফ্রিকা সিডিসির মহাপরিচালক জ্যাঁ কাসেয়া বলেছেন, আক্রান্ত এলাকা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে মানুষের চলাচল বেশি হওয়ায় দ্রুত আঞ্চলিক সমন্বয় জরুরি।

এদিকে উগান্ডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কঙ্গো থেকে আসা এক ব্যক্তি রাজধানী কাম্পালায় বুন্ডিবুগিও ধরনের ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তবে দেশটি বলেছে, এই সংক্রমণ কঙ্গো থেকে এসেছে এবং এখন পর্যন্ত উগান্ডার ভেতরে স্থানীয়ভাবে আর কোনো সংক্রমণ নিশ্চিত হয়নি।

টাইম ডিশন ২৪ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর