ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ২০ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ২০ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home অন্যান্য... হজ-ওমরা পালনকালে মৃত্যুবরণের ফজিলত

হজ-ওমরা পালনকালে মৃত্যুবরণের ফজিলত


মুফতি ওমর বিন নাছির

হজ ও ওমরা মুসলমানের জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত। তাই আল্লাহর দরবারে হাজিরা, গুনাহ মাফ এবং আত্মার পবিত্রতার এক মহিমান্বিত যাত্রা।

প্রতিবছর পৃথিবীর কোটি কোটি মুসলমান কাবায় উপস্থিত হন। সেখানে ইবাদতের মহান সৌভাগ্য অর্জন করেন। হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে অনেকে সেখানে ইন্তেকাল করেন। একজন মুমিনের জন্য হজ-ওমরা পালনকালে মৃত্যু বিরাট সৌভাগ্য ও মর্যাদার বিষয়।

একাধিক হাদিসে মহানবী (সা.) ইহরাম অবস্থায় মৃত্যুবরণকারীর বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলতের কথা উল্লেখ করেছেন। কারণ এমন মৃত্যু শুধু দুনিয়ার সফরের সমাপ্তি নয়; বরং আল্লাহর ঘরের মেহমান অবস্থায় আখিরাতের অনন্ত জীবনের দিকে যাত্রা। ইবনে আববাস (রা.)-থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘এক ব্যক্তি আরাফাতের ময়দানে মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে উকুফ-রত ছিলেন। হঠাৎ তিনি বাহন থেকে নিচে পড়ে যান।

এতে তার ঘাড় মটকে যায়, ফলে তিনি মারা যান। তখন মহানবী (সা.) বলেন, তাকে বরইপাতা সিদ্ধকরা পানি দিয়ে গোসল দাও, তার দুই কাপড় দিয়ে তাকে কাফন পরাও। তাকে সুগন্ধি লাগিও না এবং তার মাথাও আবৃত কোরো না। কেননা তাকে কিয়ামতের দিন তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উঠানো হবে।’ (সহিহ : বুখারি, হাদিস নং : ১২৬৭, সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ১২০৬)
আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি হজের উদ্দেশে বের হলো, অতঃপর মৃত্যুবরণ করল, কিয়ামত পর্যন্ত তার হজের সওয়াব লেখা হবে।

আর যে ব্যক্তি ওমরার উদ্দেশে বের হলো, আর সে অবস্থায় তার মৃত্যু হলো কিয়ামত পর্যন্ত তার জন্য ওমরার সওয়াব, লেখা হবে। যে ব্যক্তি জিহাদের উদ্দেশে বের হলো, এবং তাতে তার মৃত্যু হলো, কিয়ামত পর্যন্ত তার জন্য মুজাহিদের সওয়াব লেখা হবে।’ (মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস নং : ৬৩৫৭, তবারানি আউসাত, হাদিস নং : ৫৪৮০)
হজ ও ওমরার সফর একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে পবিত্র ও আবেগময় যাত্রাগুলোর একটি। এই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা আল্লাহর বিশেষ রহমত ও সৌভাগ্যের নিদর্শন। কারণ এমন ব্যক্তি দুনিয়া থেকে বিদায় নেয় ইবাদত, তাওবা, তালবিয়া ও আল্লাহর স্মরণের পরিবেশে। একজন মুমিনের জন্য এর চেয়ে বড় সৌভাগ্য আর কী হতে পারে যে, সে আল্লাহর ঘরের মেহমান অবস্থায় তার রবের ডাকে সাড়া দিচ্ছে! তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত হজ-ওমরার সফরকে শুধু আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে নয়; বরং আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের মহান সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা এবং সর্বদা এমন নেক অবস্থায় মৃত্যুর জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা।

টাইম ডিশন ২৪ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর